Bangabandhu-1 satellite

বঙ্গবন্ধু স্যাটেলাইট-১

বঙ্গবন্ধু স্যাটেলাইট-১

লেখকঃ মোঃ শাহাদাত হোসেন

অবশেষে সকল জল্পনা-কল্পনার অবসান ঘটিয়ে ১২ মে ২০১৮ যুক্ত্রাষ্ট্রের ফ্লোরিডা থেকে স্পেসএক্স এর ফ্যালকন-৯ রকেটে সাহায্যে মহাকাশে নিজের কক্ষপথে গেল বাংলাদেশের প্রথম কমিউনিকেশনস স্যাটেলাইট বঙ্গবন্ধু-১। বঙ্গবন্ধু স্যাটেলাইট এর মাধ্যমে বিশ্বের ৫৭তম স্যাটেলাইট উতক্ষেপনকারী দেশ হল বাংলাদেশ।

গত বছর ২০১৭ সালের ১৬ ডিসেম্বর বঙ্গবন্ধু স্যাটেলাইট এর উড্ডয়নের কথা থাকলেও হারিকেন আরমায় এর উৎক্ষেপণস্থান ফ্লোরিডাতে ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হওয়ায় সেই তারিখ পিছিয়ে ২০১৮ তে আনা হয়।

ফ্লোরিডার স্থানীয় সময় ১০ মে ২০১৮ স্পেসএক্স এর যান্ত্রিক ত্রুটির কারণে বঙ্গবন্ধু-১ স্যাটেলাইট একদিন পিছিয়ে ১১ মে ২০১৮ ফ্লোরিডার স্থানীয় সময় বিকেল ২টার দিকে উৎক্ষেপিত হয়। বাংলাদেশসময় ১২ মে ২০১৮ (অথবা ১১ মে শুক্রবার দিবাগত) রাত ২টা ১৪ মিনিটে যুক্তরাষ্ট্রের ফ্লোরিডার কেনেডি স্পেস সেন্টার থেকে বঙ্গবন্ধু-১ স্যাটেলাইটটি সফলভাবে উৎক্ষেপণ করা হয়। উৎক্ষেপণের ৩৩ মিনিট ৪৭ সেকেন্ডে বঙ্গবন্ধু-১ স্যাটেলাইট পৌঁছে যায় জিও স্টেশনারি ট্রান্সফার অরবিটে।


Bangabandhu-1 satellite

যেভাবে শুরুঃ

উপগ্রহ উৎক্ষেপণের মাধ্যমে সম্প্রচার ও টেলিযোগাযোগ সেবা পরিচালনায় ২০১৪ সালের সেপ্টেম্বরে একনেক সভায় দুই হাজার ৯৬৮ কোটি টাকার ‘বঙ্গবন্ধু স্যাটেলাইট উৎক্ষেপণ’ প্রকল্প অনুমোদন পায়।

এর মধ্যে সরকারের নিজস্ব তহবিল থেকে বরাদ্দ দেওয়া হয় এক হাজার ৩১৫ কোটি ৫১ লাখ টাকা, যা মোট ব্যয়ের প্রায় ৪৪ শতাংশ। এ ছাড়া ‘বিডার্স ফাইন্যান্সিং’ এর মাধ্যমে এ প্রকল্পের জন্য এক হাজার ৬৫২ কোটি ৪৪ লাখ টাকা সংগ্রহের পরিকল্পনা নেওয়া হয়।

এই প্রেক্ষিতে হংক সাংহাই ব্যাংকিং করপোরেশনের (এইচএসবিসি) সঙ্গে প্রায় এক হাজার ৪০০ কোটি টাকার ঋণচুক্তি  হয়  ২০১৬ সালের সেপ্টেম্বরে। এক দশমিক ৫১ শতাংশ হার সুদসহ ১২ বছরে ২০ কিস্তিতে ওই অর্থ পরিশোধ করতে হবে।

স্যাটেলাইট সিস্টেমের নকশা তৈরির জন্য ২০১২ সালের মার্চে প্রকল্পের মূল পরামর্শক হিসেবে নিয়োগ পায় যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক ‘স্পেস পার্টনারশিপ ইন্টারন্যাশনাল’।

এরপর স্যাটেলাইট সিস্টেম কিনতে ফ্রান্সের কোম্পানি থ্যালিস এলিনিয়া স্পেসের সঙ্গে একহাজার ৯৫১ কোটি ৭৫ লাখ ৩৪ হাজার টাকার চুক্তি করে বিটিআরসি।

পৃথিবীর কক্ষপথে একটি স্যাটেলাইট বসাতে প্রয়োজন হয় সুনির্দিষ্ট অরবিটাল স্লট। ২০১৪ সালের ডিসেম্বরে রাশিয়ার সংস্থা ইন্টারস্পুটনিকের কাছ থেকে এই অরবিটাল স্লট ইজারা নিতে অনুমোদন দেওয়া হয় ২১৮ কোটি ৯৬ লাখ টাকা।

এর মাঝে স্যাটেলাইটের সার্বিক ব্যবস্থাপনার জন্য ‘বাংলাদেশ কমিউনিকেশন স্যাটেলাইট কোম্পানি লিমিটেড’ নামে একটি সংস্থা গঠন করা হয়। এই সংস্থা গঠনে মূলধন হিসেবে অনুমোদন দেওয়া হয় পাঁচ হাজার কোটি টাকা।


যেসব সুবিধা পাওয়া যাবে বঙ্গবন্ধু-১ স্যাটেলাইট থেকে

বর্তমানে দেশের টেলিভিশন চ্যানেলগুলো সিঙ্গাপুরসহ বিশ্বের বিভিন্ন দেশ থেকে স্যাটেলাইট ভাড়া নিয়ে তাদের কার্যক্রম পরিচালনা করছে। এজন্য বছরে ব্যয় হয় প্রায় ১২৫ কোটি টাকা। বঙ্গবন্ধু স্যাটেলাইট চালু হলে অনেকাংশেই কমে আসবে এ ব্যয়। শুধু তাই নয়, একই সঙ্গে দেশের টাকা থেকে যাবে দেশেই।

স্যাটেলাইটের তরঙ্গ ভাড়া দিয়ে বৈদেশিক মুদ্রা আয়েরও সম্ভাবনা রয়েছে। টেলিভিশন চ্যানেল ছাড়াও ইন্টারনেট সেবাদানকারী প্রতিষ্ঠান, ভি-স্যাট ও বেতারসহ ৪০ ধরনের সেবা পাওয়া যাবে এ স্যাটেলাইটের মাধ্যমে।

স্যাটেলাইটের কার্যক্রম পুরোপুরিভাবে শুরু হলে আশপাশের কয়েকটি দেশে টেলিযোগাযোগ ও সম্প্রচার সেবা দেওয়ার জন্য জিয়োসিক্রোনাস স্যাটেলাইট সিস্টেমের গ্রাউন্ড সিস্টেমসহ সব ধরনের সেবা পাওয়া যাবে।

যেকোনো ধরনের প্রাকৃতিক দুর্যোগে টেরিস্ট্রিয়াল অবকাঠামো ক্ষতিগ্রস্ত হলেও বঙ্গবন্ধু স্যাটেলাইট দেশে নিরবচ্ছিন্ন যোগাযোগ ব্যবস্থা এবং পরিবেশ যোগাযোগ মাধ্যম হিসেবে ই-সেবা নিশ্চিত করবে।

তাছাড়া, আবহাওয়ার পূর্বাভাস, টেলিমেডিসিন, ই-লার্নিং, ই-রিসার্চ, ভিডিও কনফারেন্স প্রতিরক্ষা ও দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা সম্পর্কে ভালো তথ্য-উপাত্ত পাওয়া যাবে এ স্যাটেলাইটের মাধ্যমে। নতুন দিগন্ত খুলে যাবে অন্যান্য বিভিন্ন খাতেও।

প্রতিবেশী দেশ ভারত, পাকিস্তান ও শ্রীলঙ্কার নিজস্ব স্যাটেলাইট রয়েছে। এ স্যাটেলাইট উৎক্ষেপণের ফলে নেপাল, মিয়ানমার, ভুটান ও অন্যান্য দেশের কাছে সেবা ভাড়া দিতে পারবে বাংলাদেশ। এর মাধ্যমে বছরে প্রায় ৫০ মিলিয়ন মার্কিন ডলার আয় করা যাবে।

বঙ্গবন্ধু স্যাটেলাইটের মোট ৪০টি ট্রান্সপন্ডার থাকবে। এর মধ্যে ২০টি ট্রান্সপন্ডার বাংলাদেশের ব্যবহারের জন্য রাখা হবে। বাকি ২০টি ট্রান্সপন্ডার বিদেশি অন্যান্য প্রতিষ্ঠানের কাছে বিক্রির জন্য রাখা হবে।

বঙ্গবন্ধু-১ নিয়ন্ত্রণের গ্রাউন্ড স্টেশন:

২৪ ঘণ্টা রক্ষণাবেক্ষণ করার লক্ষ্যে আমাদের দেশ থেকেই বঙ্গবন্ধু-১-কে নিয়ন্ত্রণ এবং রক্ষণাবেক্ষণ করবে দেশের সেরা ১৮ জন স্যাটেলাইট প্রকৌশলী। গ্রাউন্ড স্টেশন দু’টি হলো ঢাকার অদূরে গাজীপুর জেলার জয়দেবপুরের বিসিএসসিএল এবং পার্বত্য চট্টগ্রামের রাঙামাটি জেলার ভূ-উপগ্রহ কেন্দ্র।

ফ্রান্সের থ্যালেস অ্যালেনিয়া ৩ বছরের জন্য একে রক্ষণাবেক্ষণের দায়িত্ব নিলেও মূল কাজ সম্পাদিত হবে জয়দেবপুরের গ্রাউন্ড স্টেশন থেকেই।


Bangabandhu-1 satellite ground station

www.govideotube.com ওয়েব সাইটের যেকোন ভিডিও কিংবা পোস্ট যদি আপনার ভালো লাগে তাহলে অবশ্যই অবশ্যই govideotube ইউটিউব চ্যানেলটি সাবস্ক্রাইব করবেন এবং govideotube ফেসবুক পেজটি লাইক দিবেন। যেকোন মতামতের জন্য কমেন্টস করুন। ভালো থাকবেন, নিরাপদে থাকবেন। ধন্যবাদ।

Add your comment

Your email address will not be published.