গুছিয়ে এবং বুঝিয়ে বলার অভ্যাস গড়ে তুলুন

জীবনে চলার পথে আমরা প্রতিদিনিই এক বা একাধিক সমস্যার মুখোমুখি হই। এই সমস্যাগুলো সমাধান করেই আমাদের সামনে এগিয়ে যেতে হয়। এরকম হাজারো সমস্যা নিয়েই আমাদের জীবন। তবে একেক জনের সমস্যা একেক রকম। এই হাজারো সমস্যাগুলোর মধ্যে আমরা কিছু সমস্যার সমাধান পুরোপুরি করতে পারি আবার কিছুর আংশিক সমাধান করতে পারি আবার অনেক সময় অনেক সমস্যার সমাধান করতেই পারি না।


আমাদের সমস্যাগুলো যেমনই হোক না কেন এবং সকল সমস্যার সমাধান হয়তো আমরা করতে পারবোনা কিন্তু সমাধানের চেষ্টাতো আমরা করতে পারি। সমস্যা সমাধানের যত ধরনের কৌশল আছে তার মধ্যে একটি অন্যতম কৌশল হলো সমস্যাটি বিশ্লেষণ করে সমাধানের জন্য সুন্দর করে অন্যকে গুছিয়ে ও বুঝিয়ে বলা। আমরা জীবনে আমাদের চারপাশের মানুষের কাছ থেকে অনেক সময় অনেক ধরনের কষ্ট পেয়ে থাকি। এই কষ্টগুলো অনেক সময় আমরা নিজেরাই একাকী নিরবে সহ্য করি। আমাদের মাঝে কমবেশি অনেকেই আছেন যারা এই কষ্টগুলো একাই বহন করেন এবং নিরবে একা একা কাঁদেন। কিন্তু আমরা কি কখনও ভেবে দেখেছি, যে কারনে কিংবা যার করনে আমি কষ্টগুলো পাচ্ছি তাকে কি আমি কখনও আমার এই কষ্টের কারনগুলো সুন্দর করে বুঝিয়ে বলেছি। যদি বলতে পারতেন তাহলে হয়তো সমস্যার সমাধানও হয়ে যেত। আমাদের এই কষ্টগুলো অনেক সময় আমাদের বাবা-মা, ভাই-বোন, স্বামী-স্ত্রী, সহপাঠী, সহকর্মী অথবা আশেপাশের ঘনিষ্ঠ জনদের কাছ থেকেই পেয়ে থাকি। এই কষ্টের কারনগুলো হয়তো অনেক ছোট ছোট কিন্তু কষ্টগুলো অনেক বড় বড় মনে করি।
আমাদের মাঝে অনেকেই আছেন যারা অনেক জটিল সমস্যার সমাধান খুব সহজেই দিয়ে থাকেন। হয়তো আপনি ঐ একই সমস্যায় কখনো পড়েছেন তার সমাধান করতে পারেননি কিন্তু অন্যজন পেরেছে। এটি একটি মানুষের অন্যতম বড় গুণ বা দক্ষতা। তাদের এই দক্ষতার মধ্যে যে কাজটি করে তার মধ্যে অন্যতম হলো অন্যকে সমস্যাটি সুন্দরভাবে বুঝিয়ে বলার কৌশল। আপনি এই কৌশল যত সুন্দরভাবে রপ্ত করতে পারবেন আপনার সমস্যাগুলোর সমাধান ততটাই সহজ হবে। এই গুণ বা দক্ষতা অর্জনের জন্য আমাদের অনুশীলনের প্রয়োজন। এক দিনেই এই দক্ষতা অর্জন করা যায় না। আমি আপনি হয়তো আমাদের জীবনের সকল সমস্যার সমাধান করতে পারবো না তবে এই বিশেষ গুণ বা দক্ষতা অর্জন করে অনেক সমস্যার সমাধান করতে পারবো। তাই আমাদের জীবনে যদি এ ধরনের সমস্যা হয় তাহলে প্রথমেই অন্যকে বুঝিয়ে বলে সমাধানের চেষ্টা করবো তাতে যদি কাজ না হয় তাহলে মনকে অন্তত এই বলে সান্তনা দেওয়া যাবে যে আমি আমার অবস্থান থেকে যথেষ্ট চেষ্টা করেছি। এতেও অনেক কষ্ট প্রশমিত হবে আশাকরি।


যারা মার্কেটিং পেশায় আছেন তাদের জন্য এই কৌশল বা দক্ষতা খুবই জরুরী কিংবা যারা মার্কেটিং পেশায় ক্যারিয়ার গড়তে আগ্রহী তাদের এই দক্ষতা রপ্ত করা বিশেষ প্রয়োজন। এই বিশেষ দক্ষতা যদি আপনি রপ্ত করতে পারেন তাহলে ব্যক্তিগত জীবন, পারিবারিক জীবন থেকে শুরু করে সামাজিক জীবন, কর্মজীবনসহ সকল কিছুতেই আপনি অনেক ভালো করতে পারবেন।
আপনি যদি ভালো মানুষ, ভালো শিক্ষার্থী, ভালো শিক্ষক, ভালো কর্মী, ভালো প্রশিক্ষক, ভালো নেতা কিংবা অন্য যেকোন ক্ষেত্রেই ভালো কিছু করতে চান তাহলে আপনার এই বিশেষ গুণ বা দক্ষতা আপনাকে অনেক সাহায্য করবে।
ঢাকা শহর কিংবা জেলা শহর অথবা মফঃস্বলে যাত্রা পথে অনেক সময় বাসে এক বিশেষ পেশার মানুষের সাথে আমাদের দেখা হয়। যাদেরকে আমরা ক্যানভাসার বা সোজা বাংলায় হকার বলে চিনি। আপনি যদি একটু খেয়াল করে তাদের কাজকে বিশ্লেষণ করেন তাহলে বুঝবেন তাদের এমন এক দক্ষতা আছে যা আপনাকে মুদ্ধ ও আকর্ষন করবে। আপনি যদি তাদেরকে শুরু থেকে গভীরভাবে লক্ষ্য করেন তাহলে দেখবেন তারা বাসে উঠেই প্রথমে বেশ কিছু সতর্কতামূলক মেসেজ বা তথ্য জানাবে যেমন ধরুন তারা বলবে সম্মানীত যাত্রীগণ শুরুতেই সবাইকে শুভেচ্ছা জানাই এবং আপনাদের যাত্রা শূভ ও নিরাপদ হোক। এরপর বলবে আপনারা আপনাদের প্রয়োজনীয় জিনিসপত্র সাবধানে রাখবেন যেমন, মানিব্যাগ, মোবাইল ফোন, ল্যাপটপ, হ্যান্ডব্যাগ, লাগেজ ইত্যাদি। তারা এটাও জানাবে যে অপরিচিত ব্যক্তির দেয়া কোন খাবার খাবেন না। তাদের শুরুর এই কার্যক্রমকে বলে ইমোশনাল মার্কেটিং।


এরপর তাদের পণ্যের নাম ও তার গুণ সম্পর্কে আকর্ষনীয় ভাষায় আপনাকে সুন্দর করে গুছিয়ে এবং বুঝিয়ে বলবে। খুবই সাধারণ একটা পণ্যকে তারা আপনার সামনে এতো চমৎকারভাবে উপস্থাপন করবে যে অনেকেই পণ্যটি কিনতে আগ্রহী হবে এবং সবশেষে পণ্যটি কিনবে।
তাদের এই গুণটি থেকে আমরা কিন্তু শিক্ষা নিতে পারি। কিভাবে নিজেকে কিংবা কোন বিষয় সম্পর্কে কতো চমৎকারভাবে উপস্থাপন করা যায়। এই বিশেষ গুণ বা দক্ষতা তাদের কিন্তু এক দিনে তৈরী হয়নি। ধীরে ধীরে অনেক অনুশীলনের পরেই কেবল এমন দক্ষতার অধিকারী হওয়া যায়।। তাদের এই দক্ষতা সত্যিই প্রশংসার দাবিদার। আমরাও আমাদের জীবনে এই দক্ষতা অর্জন করে ব্যবহার করতে পারি। সবার জন্য শুভকামনা রইলো।

Add your comment

Your email address will not be published.